এই প্রথম ছাপানো বইকে পেছনে ফেলে দিল ‘ই-বই’

আজকাল বই মানে আর শুধু বই নয়৷ মানে কাগজে ছাপা, বাঁধানো, মলাট দেওয়া বই নয়৷ ছাপার অক্ষরের বই ফুটে উঠছে প্রায় বইয়ের আকারের কম্পিউটারের পর্দায়৷ সেই ‘ই-বুক' এই প্রথম ছাপানো বইকে পেছনে ফেলে দিলো৷

২০১১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ই-বুক'এর জনপ্রিয়তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে৷ এবার এক সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রাপ্তবয়স্কদের বইয়ের ক্ষেত্রে এই প্রথম ই-বুক ছাপানো বইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে৷ ২০১০ সালে ই-বুক বিক্রির হার যেখানে ছিল মাত্র ৬ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে৷ মার্কিন প্রকাশক ও বই শিল্প সংগঠনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে৷ তবে ছাপানো বইয়ের আকর্ষণ একেবারে শেষ হয়ে যায় নি৷ বিশেষ করে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রকাশকদের কাছে আজও মুনাফার প্রধান উৎস সেই ছাপানো বই৷ ২০১১ সালে অ্যামেরিকায় এ ক্ষেত্রে মুনাফার মাত্রা ছিল প্রায় ১,১১০ কোটি ডলার৷ একই সময়ে ই-বুক বিক্রি করে ২০০ কোটি ডলার কামিয়েছেন প্রকাশকরা৷ প্রথম দিকে অনেক প্রকাশক ই-বুক সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করলেও বর্তমানে প্রায় সব বড় প্রকাশকই নতুন এই মাধ্যমের দিকে ঝুঁকেছেন৷ কারণ এটা তো একটা বাড়তি ব্যবসা৷ একই বইয়ের ছাপানো এবং ই-বুক সংস্করণ বিক্রি করতে পারলে শেষ পর্যন্ত প্রকাশকই লাভবান হন৷

ছাপানো বইয়ের আকর্ষণ নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই৷ বই তো শুধু পড়ার জন্য নয়, তা স্পর্শ করা, তার গন্ধ শোঁকা, তাক ভর্তি করে সাজিয়ে রাখার আনন্দই আলাদা৷ কিন্তু ‘ই-বুক'এরও কিছু সুবিধা আছে৷ তাছাড়া ‘ই-বুক'এর ক্ষেত্রেও একাধিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে৷ যেমন ‘অ্যামাজন কিন্ডল'এর মতো শুধু বই-সর্বস্ব ডিভাইসে ‘ই-বুক'এর ‘কালি' প্রায় ছাপার অক্ষরের মতো৷ পর্দায় প্রায় কোনো কম্পন নেই৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পড়া যায় সেই বই৷ ছোট্ট ডিভাইসের মধ্যেই পুরে ফেলা যায় আস্ত লাইব্রেরি৷ বই কিনতে দোকানে ছোটারও প্রয়োজন নেই৷ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বই কিনে ডাউনলোড করে ফেললেই হলো৷ ‘অ্যামাজন কিন্ডল' আবার প্রায় গোটা বিশ্বের মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বন্দোবস্ত করে রেখেছে৷ থাইল্যান্ডের সমুদ্র সৈকতে বসেও আপনি সদ্য প্রকাশিত টাটকা জার্মান বই একবার ডাউনলোড করে তারপর পছন্দমতো পড়ে নিতে পারেন৷ পর্দার উপর পছন্দের জায়গায় দাগ কাটা, শব্দের অর্থ খোঁজার মতো কিছু বাড়তি গুণাগুণও রয়েছে ই-বুক'এ৷

তবে ‘ই-বুক' পড়তে গেলে আলাদা ‘ই-বুক রিডার' থাকতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই৷ যে কোনো কম্পিউটারেই ই-বুক পড়া সম্ভব৷ তবে আকার-আয়তনের কারণে ট্যাবলেট কম্পিউটারই বই পড়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত৷ অ্যাপল কোম্পানির আইপ্যাড, অথবা অ্যান্ড্রয়েড'এর মতো অপারেটিং সিস্টেম ভরা ট্যাবলেট কম্পিউটার'এর মধ্যেও ‘ই-বুক' পড়ার আলাদা ‘অ্যাপ' বা প্রোগ্রাম থাকে৷ ফলে ‘অ্যামাজন'এর মতো বইয়ের দোকানে কেনা ই-বুক যে কোনো ডিভাইসেই পড়ে নিতে পারেন ক্রেতা৷

সুত্র: http://www.dw. com