একটি লাইব্রেরী ও স্বপ্ন পূরণের আকাঙ্ক্ষা

কর্মপূর্ণ মানুষের জীবন। মানুষ ছুটে চলেছে তাদের লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে। ছাত্র জীবনেরও যে মানুষটির বই পড়ার অভ্যেস ছিল তা বর্তমান কর্মজীবনে কাজে চাপে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আর সেই সময় নেই, হাতে ধরে কিছুটা সময় নিয়ে একাগ্র চিত্তে বইয়ের পাতা উল্টে পাল্টে পড়ার । এখন মানুষ বাসে বা ট্রেন ভ্রমণে কিংবা কাজের ফাঁকে ফাঁকে বই পড়তে চায়। কিন্তু পছন্দের বইগুলো বহন করাটাও যেন আলস্যতা। জায়গার প্রতুলতা। আর এর জন্য দরকার এমন একটি মাধ্যম যেখানে হাজার হাজার বই বহন করাও খুব সহজ হবে। নিজের প্রছন্দমতো বই পড়তে পারবে খুব সহজে। আর এই ধরনের বই পড়ার সুবিধা পেতে ডিজিটাল লাইব্রেরীর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু একটি ডিজিটাল লাইব্রেরী বলতে যা বোঝায় তার অভাব বাংলা ভাষাভাষী পাঠককূলের কখনই পূরণ হয়নি। বর্তমানে দুই দেশের (বাংলাদেশ ও ভারত) সরকার ডিজিটাল লাইব্রেরী গঠনে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিলেও তা পাঠকগণের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। লাইব্রেরী গুলো গড়ে উঠেছে শুধুমাত্র একটি আর্কইভ বা সংগ্রহশালা হিসেবে। যেখানে থেকে পাঠক PDF বই সংগ্রহ করতে পারে এবং বিভিন্ন ডিভাইসে পড়তে পারে। কিন্তু এই ধরনের বই পাঠকদের বই পড়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুবিধা দিতে পারে না। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, ডিজিটাল লাইব্রেরীর বই নিম্নমানের স্ক্যানিং এর মাধ্যমে প্রস্তুত করা (বেশ কিছু ভাল স্ক্যানও আছে) এবং অধিকাংশ পুরনো বই পড়ার অযোগ্য। এর ফলে একটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরী থাকা স্বর্তেও পাঠকগণ তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারছেন না।

এখন উপায় কি? কিভাবে এই বিপুল পরিমান বইগুলো আবার পাঠকদের উপযোগী করে তোলা যায়? অনেক ভাবনা চিন্তার পর আমাদের মনে হয়েছে সরকার যখন আমাদের জন্য কিছুটা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে… আমরা যারা পাঠক আছি তাদেরও আর একটু হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ। আর এই মনোভাব থেকে জন্ম হয়েছে DLOBL (Digital Library of Bengali Language) এর।

DLOBL একটি স্বল্প লাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাভাষার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল লাইব্রেরী। আমরা এই কার্যক্রমের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ও পুনরায় প্রকাশিত হয়নি এমন বইগুলোকে সংগ্রহ করে তা আবার সম্পাদন যোগ্য বই (পাঠক চাইলে বই এডিট করতে পারবেন কিংবা নিজের সংগ্রহের জন্য প্রিন্ট করে রাখতে পারবেন) হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এতে করে পাঠকগণ যেমন বিপুল পরিমান দুর্লভ বই সহজেই হাতের নাগালে পাবেন তেমনি বাংলা ভাষা পাবে এমন একটি ডিজিটাল বইয়ের সংগ্রহশালা যা কখনই হারিয়ে যাবে না বা নষ্ট হবে না এবং যখন খুশি তখন পুরনো বইগুলো প্রয়োজন অনুসারে রি-প্রিন্ট করা যাবে।

DLOBL শুধুমাত্র বিভিন্ন সরকার (বাংলাদেশ, ভারত, অন্যান্য দেশ) কর্তৃক পরিচালিত ডিজিটাল লাইব্রেরী থেকে বই সংগ্রহ করে থাকে এবং বিভিন্ন প্রসেসিং ধাপ অতিক্রম করে সম্পাদন যোগ্য বই প্রস্তুত করে থাকে। এছাড়া কপিরাইট উন্মুক্ত বিভিন্ন লেখকের বই লাইব্রেরী বা ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে সংগ্রহ করে তা স্ক্যান করার মাধ্যমে পুনরায় সম্পাদন যোগ্য বই হিসেবে প্রস্তুত করে।

বাংলাভাষা বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু বাংলাভাষা চর্চার অভাবে আজ আমরা বাঙালীরাই বাংলা ভাষাকে ভুলতে শিখেছি। নিজ ভাষাকে চর্চার মাধ্যমে জিইয়ে রাখে একমাত্র লাইব্রেরী। যে জাতীর যত সমৃদ্ধ লাইব্রেরী আছে সে জাতি তত উন্নত। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ লাইব্রেরী থাকা স্বর্তেও সর্বস্তরের মানুষের কাছে লাইব্রেরী পৌছে যেতে না পারার কারনে আমরা পিচিয়ে পড়ছি প্রতিনিয়ত। যেহেতু ফিজিক্যাল লাইব্রেরী এখনও সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌছায়নি বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলগুলোতে সেখানে ডিজিটাল লাইব্রেরী দিতে পারে এই সমস্যার সমাধান। একটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরী গড়ে দিতে পারে প্রতিটি মোবাইল বা এই ধরনের যন্ত্রাংশে এক একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী।

এতো বিপুল পরিমান বই পরিপূর্ণ ডিজিটাল বইয়ে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে কিছু উদ্দ্যোমী মানুষ কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিদিন। আমরা বিশ্বাস রাখি, আগামী ১০ বছরে DLOBL বাংলা ভাষার পাঠকদের একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী উপহার দিতে পারবে। আমাদের এই শুভযাত্রায় আপনাদের আমন্ত্রন রইল।

আরো কিছু কথা: আগামী ২০ ডিসেম্বর DLOBL এর বিটা রিলিজ হবে। সকলকে আমাদের সাইটটি ভ্রমন এবং উন্নতিকল্পে পরামর্শদানের অনুরোধ রইল। www.dlobl.org